চাঁপাইনবাবগঞ্জ | বৃহঃস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ info@mohanonda24.com +৮৮ ০১৬৮২ ৫৬ ১০ ২৮, +৮৮ ০১৬১১ ০২ ৯৯ ৩৩
বর্তমানে বাংলাদেশের তরুণ লেখকদের ভেতর “সাদাত হোসাইন” সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিচিত একটি নাম।

সাদাত হোসাইনের শূন্য থেকে শীর্ষে বেড়ে ওঠার গল্প

হ.আ/রিপোর্টার | প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৩ ০১:২১

হ.আ/রিপোর্টার
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৩ ০১:২১

সংগৃহিত ছবি (ইন্টারনেট)

বর্তমানে বাংলাদেশের তরুণ লেখকদের ভেতর “সাদাত হোসাইন” সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিচিত একটি নাম। তাকে বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাদাত হোসাইন তাঁর সহজাত ভাষায় উপন্যাস, কবিতা ও ছোটগল্প লিখে অফুরন্ত ভালবাসা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন বইয়ের দোকান ‘রকমারি ডটকম’- এর মতে, গত কয়েক বছর ধরেই একুশে বইমেলায়  সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে সাদাত হোসাইনের বই। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ও তিনি দারুণ জনপ্রিয়। ২০১৪ সালে সাদাত হোসাইনের ‘জানালার ওপাশে’ বইটি প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৫ সালে ‘আরশিনগর’ বইটি বের হওয়ার পর তিনি দারুণ সারা পান। সেই থেকে শুরু। এরপর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।


চলুন জেনে নেয়া যাক সাদাত হোসাইনের শূন্য থেকে শীর্ষে ওঠার গল্প.....

মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার কয়ারিয়া গ্রামের সাদাত হোসাইনের জন্ম। তাঁর মায়ের বই পড়ার অভ্যাস ছিল। তবে ছাত্র হিসাবে সাদাত তেমন ভালো ছিলেন না। তাদের বাসায় স্কুলের বাইরের বই পড়ার তেমন পরিবেশ ছিলো না। সাদাত যখন ছোট তখন তাঁর বাবা তাঁর মায়ের জন্য শাড়ি আনতেন। সে সময় শাড়ি কিংবা লুঙ্গির ভেতর একটি করে পত্রিকা থাকতো। সাদাত হোসাইন সেই পত্রিকাগুলো যত্নের সাথে সঞ্চয় করে রাখতেন। পরে পত্রিকার লেখা গুলো বারবার পড়তেন। সাদাত হোসাইন তখন ক্লাস ফোরে পড়তেন। তিনি হঠাৎ একদিন ইত্তেফাক পত্রিকায় রোকনুজ্জামান খানের কচি-কাচার আসর নামে একটি পাতা খুজে পান। সে পাতার মধ্যে ছোট একটা কবিতা ছিল, যেটি একটি চতুর্থ শ্রেণীর বাচ্চার লেখা। পত্রিকার সেই বাচ্চা ছেলেটির নামও ছিল সাদাত হোসাইন। জীবনে প্রথম নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখা তাঁর ভালোও লাগে আবার ভিষণ মন খারাপ হয়। সেই থেকে জেদ চেপে যায় সিদ্ধান্ত নেন, নিজের নামও ছাপার অক্ষরে দেখবেন।

কিন্তু বাস্তবে এটি করা তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কারন সাদাতের গ্রামে তখন বিদ্যুৎ ছিলো না। রাস্তা ছিল কাঁচা, পোস্ট অফিসও ছিল না। তাই পত্রিকা আসতো না। একদিন তিনি ক্যালেন্ডারের পাতার মলাটের উপর জীবনানন্দ দাশের লেখা কবিতার দুটি লাইন পান। কিশোর সাদাত তখন জীবনানন্দ দাশের নাম ও শোনেনি। তখন কবি বলতে তিনি বুঝতেন রবীন্দ্রনাথ আর কাজী নজরুল ইসলাম। জীবনানন্দের কবিতা পড়ে সাদাত তাঁর মাকে বলেন, তিনি এমন কবিতা লিখতে পারেন। তবে পাত্তা পাননি। পরেরদিন ভোরবেলা তিনি ছোট্ট একটা কবিতা লিখে ফেলেন। এবারও পরিবারের কারো কাছ থেকে তেমন পাত্তা মিলেনি। এরপর পাসের বাড়ীর এক বড় ভাইকে নিজের লেখা কবিতা দেখান।  সেই বড় ভাই কবিতাটি খুব পছন্দ করেন। তাই উপহার হিসেবে সাদাতকে  লাল কালির একটি কলম দেন।  ক্লাস ফোরের সেই সাদাতের লেখালেখির শুরুটা তখন থেকেই। এভাবেই মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে বেশ কয়েকজন লেখক বন্ধু তৈরি হয়। একদিন সাদাত তাঁর লেখা বন্ধুদের দেখান।  প্রশংসা তো পাননি, উল্টো হতাশ হয়ে পড়েন। সেই হতাশার জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরের ৬ বছর এবং পরে আরও ২ বছর লেখালেখি থেকে দূরে থাকেন। তত দিনে ফটোগ্রাফি করা শুরু করে দিয়েছেন। এরপর ফটোগ্রাফার বন্ধুদের থেকে নিজের লেখার জন্য বেশ প্রশংসা পান। একইসাথে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। তাই দীর্ঘ আট বছর বিরতির পরে আবারও লেখালেখি শুরু করেন। এর  পরের মাত্র এক দশকের লেখালেখিতেই সাদাত হোসাইনের বইয়ের সংখ্যা ও জনপ্রিয়তা শুধুই বেড়েছে। লিখেছেন ১৮ টি উপন্যাস, ৩ টি গল্প ও ৬ টি কবিতার বই। সবগুলোই পাঠক মহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে। পেয়েছেন একাধিক পুরষ্কার। ২০১৯ সালে পেয়েছেন ‘হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরষ্কার’। একই বছরে জিতে নেন ‘চোখ সাহিত্য পুরষ্কার’। ২০২১ সালে ‘মার্ভেল অফ টুমরো ইনফ্লুয়েন্সার্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল সাদাত হোসাইনের কলম যেন ক্লান্ত হয় না। তরুণ এই লেখকের লেখার ফোয়ারা বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে - এমনটাই প্রত্যাশা। 
 
 


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: