ঢাকা রবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন ১৪২৯


চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক খনিয়াদিঘী মসজিদ


প্রকাশিত:
২১ জুন ২০২২ ০১:৩৪

আপডেট:
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:৫৫

বাংলাদেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক জেলা হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ১৪৫০ থেকে ১৫৬৫ খ্রিষ্টাব্দ অবধি গৌড় ছিলো তৎকালীন বাংলার রাজধানী। এ সময়টাতেই নির্মিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক খনিয়াদিঘী মসজিদ। ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদ সংলগ্ন এই মসজিদটি স্থানীয়ভাবে চামচিকা মসজিদ নামে পরিচিত। আবার অনেকেই একে রাজবিবির মসজিদ ও বলে থাকেন।

 

‘চামচিকা’ মসজিদের নামকরণের ব্যাখ্যা সেভাবে পাওয়া যায়না। তবে বর্তমান ভারতে অবস্থিত বড় চামচিকা মসজিদের আদলেই এটি তৈরী। এবং মসজিদটি খনিয়া দীঘির কাছে হওয়াতে এটিকে খনিয়া দীঘি মসজিদ বলা হয়। ধারণা করা হয় ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দে কোন এক রাজবিবি মসজিদটি নির্মাণ করেন। সেখান থেকেই ‘রাজবিবির মসজিদ’ নামের উৎপত্তি।

 

পার্শ্ববর্তী দারসবাড়ী মসজিদের মতই পোড়ামাটি ইট ও কারুকার্য খচিত এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটি দেখতে প্রায় মালদার চামকাটি মসজিদের মত। এর দেয়ালের পরিধি এত মোটা যে চৈত্র মাসের প্রচন্ড গরমে এর ভিতরে শীতল পরিবেশ বিদ্যমান থাকে। এর মূল গম্বুজটি অতি সুন্দর। এই মসজিদের পূর্বে ৬০ বিঘা আয়তনের খনিয়া/খঞ্জন দিঘী নামে একটি বড় দীঘির রয়েছে যার পাড়ে সিড়ি বাঁধা ঘাট ছিল মুসল্লীদের ওজু করার জন্য।

 

এই মসজিদের আয়তন ৬২ × ৪২ ফুট। মূল গম্বুজটির নিচের ইমারত বর্গাকারে তৈরী, যার প্রতিটি বাহু ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট। বড় কামরার সামনের দিকে (পূর্ব) একটি বারান্দা ছিল, যার অবশিষ্টাংশ বর্তমানে দেখা যায়। মসজিদটি ইটের তৈরী, বাইরেে দিকে সুন্দর কারুকাজ করা। বর্তমানে খঞ্জনদীঘির মসজিদটির একটি মাত্র গম্বুজ ও দেয়ালের কিছু অংশ টিকে আছে। কিন্তু এগুলোর অবস্থাও খুব জীর্ণ আকার ধারণ করেছে। মসজিদটি দীর্ঘকাল আগে পরিত্যাক্ত হয়েছে। পরিচর্যার অভাবে এ মসজিদটি বিলীয়মান।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি. দূরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নে মসজিদটি অবস্থিত।

তথ্য: ইন্টারনেট



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: