ঢাকা শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৮


সাব্বিরের সেঞ্চুরিও হোয়াইটওয়াশ ঠেকাতে পারল না


প্রকাশিত:
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৮:০১

আপডেট:
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:৪৩

রোবটের মতো চেষ্টা করলেন সাব্বির রহমান। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়লেন। তুলে নিলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি। তবুও হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় শেষ ওয়ানডেতে ৮৮ রানের বড় হারে তিন ম্যাচ সিরিজে ধবলধোলাই হলো টাইগাররা।

  জবাব দিতে নেমে শুরুতেই টিম সাউদির পেস তোপে পড়ে বাংলাদেশ। সূচনালগ্নে তার বলে উইকেটের পেছনে টম লাথামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম। এই সিরিজে সুপার ফ্লপ তিনি। এর রেশ না কাটতেই এই ডানহাতি পেসারের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। ফিরতি ওভারে রানের খোঁজে থাকা লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ করে তিনি ফিরিয়ে দিলে চাপে পড়ে টাইগাররা

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম। ভালোই এগোচ্ছিলেন তারা। তবে আচমকা থেমে যান মুশফিক। ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হয়ে ফেরেন অফফর্মে থাকা মিস্টার ডিপেন্ডেবল। পরে টিকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে কলিন মানরোকে লোপ্পা ক্যাচ দিয়ে তিনি ফিরলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাংলাদেশ। এবার কোনো ম্যাচেই তার সাইলেন্ট কিলারের ভূমিকাটা দেখা গেল না

৩৩১ রানের পাহাড়সম টার্গেট। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৬১ রানে উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ভীষণ চাপের মুখে তাকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সাব্বির রহমান। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তারা। এতে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে টাইগাররা। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। পথিমধ্যে ফিফটি তুলে নেন সাব্বির। ফিফটির পথে এগিয়ে যান সাইফউদ্দিন। তাতে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন তারা

কিন্তু বিধিবাম! থেমে যেতে হয় সাইফউদ্দিনকে। ঠিকমতো ব্যাটে-বলে না হওয়ায় বোল্টের বলে গ্র্যান্ডহোমকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। ফেরার আগে ৬৩ বলে চারে ৪৪ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলেন সাইফ। এই অলরাউন্ডার ফিরলে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনে মিরাজকে বসিয়ে নামেন মাশরাফি। তবে সাব্বিরকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দিতে পারেননি তিনি। সাউদির চতুর্থ শিকার হয়ে বোল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। এতে জয়ের প্রহর গুনতে থাকে নিউজিল্যান্ড

একে একে যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন টপঅর্ডার-মিডলঅর্ডাররা। তবে থেকে যান সাব্বির। বুক চিতিয়ে লড়েন তিনি। ক্রিজে এসে তাকে সঙ্গ দেন মিরাজ। ফিফটি তুলে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান সাব্বির। শেষ পর্যন্ত ১০৫ বলে ১২ চার ছক্কায় তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। এটিই তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি। এই হার্ডহিটারের ঝুলিতে রয়েছে ৫টি হাফসেঞ্চুরির ইনিংস। তার তিন অংক ছোঁয়ার পরই খেই হারান মিরাজ। সাউদির ওপর চড়াও হতে গিয়ে গাপটিলকে ক্যাচ দিয়ে আসেনব তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৪ বলে চারে ৩৭ রানের মারকুটে ইনিংস খেলেন স্পিন অলরাউন্ডার

এর জের না কাটতেই রানআউটে কাটা পড়েন রুবেল। ফলে গুটিয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। অবশেষে লড়াই থামে সাব্বিরের। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এর আগে ১১০ বলে ১২ চার ছক্কায় ১০২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। এতে ৪৭. ওভারে গুঁড়িয়ে যায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। নেপথ্য নায়ক সাউদি। তিনি একাই নেন উইকেট। তার আগুন ঝরানো বোলিংয়ে ধবলধোলাইয়ের আনন্দে মেতে ওঠে কিউইরা।

বুধবার ডানেডিনে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ম্যাচে নিয়মিত কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের পরিবর্তে খেলতে নামেন কলিন মানরো। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। শুরুতেই তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে প্রথমে বোলিং নেয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করেন মাশরাফি নিজেই

ওয়ানডাউনে নেমে মার্টিন গাপটিলকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন হেনরি নিকোলস। তবে এদিন খুব বেশিদূর যেতে পারেননি ফর্মের মগডালে থাকা গাপটিল। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে তামিমের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি হাঁকানো এই ব্যাটার। ফেরার আগে করেন ৪০ বলে চার ছক্কায় ২৯ রান

পরে রস টেইলরকে নিয়ে খেলা ধরেন নিকোলাস। প্রথমে ধীরলয়ে হাঁটলেও ক্রিজে সেট হওয়ার পর কোপ বসাতে শুরু করেন তারা। ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। তাতে উল্কার গতিতে ছোটে নিউজিল্যান্ড। তবে হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে যান নিকোলাস। দুর্দান্ত খেলতে থাকা এই ওপেনারকে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তামিমের তালুবন্দি হওয়ার আগে ৭৪ বলে চারে ৬৪ রান করেন তিনি



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: