ঢাকা সোমবার, ১৪ই জুন ২০২১, ১লা আষাঢ় ১৪২৮


হাজার মাসের শ্রেষ্ঠতম মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর!


প্রকাশিত:
৬ মে ২০২১ ২১:৫৭

আপডেট:
১৪ জুন ২০২১ ১৪:০০

মহান আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের ক্ষমা করা ও পুরস্কৃত করার জন্য কতগুলো ইবাদতের দিনক্ষণ দিয়েছেন তার মধ্যে লাইলাতুল কদর অন্যতম মহিমান্বিত রাত্রি জাগরণ।লাইলাতুল কদর দুটি শব্দের অর্থ সম্মানিত ও মহিমান্বিত সাথে মর্যাদাবান জাগ্রত রাত্রি।

লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রশান্তি সহ ইবাদতীয় জাগরণীয় বরকতময় রাত্রি,পবিত্র কুরআনুল কারীমে ৯৭ নম্বর আয়াতে সূরা কদরে বলা হয়েছে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন নিশ্চয় আমি একে আল-কুরআন নাযিল করেছি আর আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি লাইলাতুল কদর হচ্ছে এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও তার রুহ জিবরীল অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তা নির্দেশক্রমে এই নিরাপত্তা জড়িত হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে সূরা কদর এক থেকে পাঁচ নম্বর।

(তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)শরীফে বলা হয়েছে,হযরত আয়েশা রাদিয়ালাহু আনহু তিনি বলেন,আমি রাসূল সাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম হে আল্লাহর রাসূল যদি আমি লাইলাতুল কদর বুঝতে পারি তবে কি করব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন তুমি বলবে হে আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল তুমি ক্ষমা করো পছন্দ করো আমাকে ক্ষমা করো।এদিকে
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) সালাত করেছে তিনি বলেন, রমাদান মাসে এমন একটি মহিমান্বিত রাত্রি জাগরণ রয়েছে যে ব্যক্তি সেই রাত্রিতে ইবাদত করবে তা হাজার মাসের চেয়েও বেশি পণ্য লাভ করবে এবং মানুষের কল্যাণ হবে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হবে সেই প্রকৃত দূর ভাগ্য।

লাইলাতুল কদরের মহিমান্বিত ভাগ্য নির্ধারণ ও তার পরিবর্তনের রাত মাহে রমজানে কত তারিখে রাত্রিতে হবে এ ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে,ইমাম আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি একটি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন তিনি বলেন লাইলাতুল কদর এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম আর এ রাতে যে যত অাল্লাহর রাস্তায় রাত্রি জাগরণকে ইবাদতে মসগুল থেকে বিশেষ দোয়া বেশি বেশি পাঠ করবে সে মুমিনদের মধ্যে লাইলাতুল কদরের ছোঁয়া অনেকটাই কাছে।

এদিকে লাইলাতুল কদর রাত্রিতে ইতিকাফ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত অার ইতিকাফ শুধু মাত্র লাইলাতুল কদরেই নয় এ ইবাদত যে কোন সময় করা যায় এবং রোজা ছাড়াও করলেই হবে আর ইতিকাফ করা নজর মানলে ওয়াজিব হয়ে যাবে।তাছাড়া ইবাদত নিজের নফসকে আল্লাহর নির্দেশনা মান্যকরায় ইবাদতে আবদ্ধ ও তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার সমস্ত অন্যতম মাধ্যম ইবাদত।এছাড়াও পাপ থেকে নিজেকে পরিচ্ছন্ন করা অন্তরের দুষিত কালি দূর করতে আল্লাহর যিকিরে থেকে পারিপার্শ্বিক ব্যস্ত কারী সকল জিনিস থেকে শূন্য করা।

অার ইতিকাফ যদি কেউ উল্লেখিত তিনটি মসজিদে কোন একটি নজর মানে তাহলে তার প্রতি তা পূরণ করা জরুরি আর যে ব্যক্তি ইতিকাফে ছন্নছাড়া অন্য কোন মসজিদে নববী সেখানেই করা জরুরি হবেনা কিন্তু শরীয়তে বিধিমালা অনুযায়ী হবে তাই যে কোন মসজিদে সালাত আদায় করলে চলবে এবং লাইলাতুল কদর ইতিকাফের প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ বাতিল হয়ে যাবে।ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তিনি বলেন হে আল্লাহর রাসূল আমি জাহিলিয়াতের যুগে মজলুম মসজিদুল হারামের ইতিকাফ করা নজর মেনেছিলাম তিনি বলেন তোমার নজর পূরণ করো তখন তিনি হাজির করেছিলেন।

ইতিকাফের সর্বোত্তম সময় বলে শরীয়তের বিধান হচ্ছে রমাদান শেষের দশ দিন যদি না হয় তবুও জায়েজ কিন্তু যদি দশ দিনের নজর মেনে থাকে তবে পুরো দশদিন করতে হবে রমজানের শেষের দশ দিন ইসলামে ইতিকাফের সর্বাধিক গুরুত্ববহন করে।তবে শরীয়তের বিধান মোতাবেক অনুযায়ী কত হবে তা যে কোন মসজিদে সালাত আদায় বা ইতিকাফ করলেও চলবে।

হযরত আবু হুড়াইরা (রাঃ)অানহু তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম রমজানের দশ দিন করে ইতিকাফ করতেন অতঃপর যে বছরে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন সে বছরে ২০ দিন ইতিকাফ করেন(বুখারী মুসলিম শরীফ)।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: