ঢাকা সোমবার, ১০ই মে ২০২১, ২৮শে বৈশাখ ১৪২৮


দুআ 'না' কবুলের গল্প


প্রকাশিত:
৪ মে ২০২১ ১০:৫৭

আপডেট:
১০ মে ২০২১ ০৮:২৭

দুআ 'না' কবুলের গল্প।

দুআ করতে করতে দুআ কবুল হয় না?
এই বেদনার উপশমের জন্যই - দুআ 'না' কবুলের কয়েকটা গল্প।

গল্পটা নুহ আলাইহিস সালামের। নয়শত বছর মানুষকে সত্যের দাওয়াত দিয়েছেন। কী মনে হয় আমাদের, জীবনের এতগুলো বছর স্নেহের সন্তান সত্য পথে ফিরে আসার জন্য দুআ করেননি?
শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে, তাঁর সন্তান মারা গেছে কাফির অবস্থায়।

গল্পটা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের। পিতা মূর্তিপূজা করেন, মূর্তি বিক্রি করেন। আল্লাহর ভাষায়- ইবরাহীম পিতাকে বলেন, قَالَ سَلاَمٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيّاً، - ‘আপনার উপরে শান্তি বর্ষিত হোক! আমি আমার পালনকর্তার নিকটে আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি মেহেরবান’। ইবরাহীম কি পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি?
ইবরাহীমের পিতা কি ঈমান এনেছিলেন?

গল্পটা লুত আলাইহিস সালামের। তাঁর অবাধ্য স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছিল পাপীদের শহরে। লুত আলাইহিস সালাম কি দুআ করেননি স্ত্রীর জন্য?

গল্পটা ইয়াকুব আলাইহিস সালামের। সন্তানের জন্য কাঁদতে কাঁদতে চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ইউসুফ আলাইহিস সালামকে ফিরে পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর তিনি কি দুআ করেননি? কত বছর পর সেই দুআর জবাব পাওয়া গিয়েছিল!

আর আমাদের নবীজি; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে নিষ্পাপ বান্দা। তাঁরও আছে এমন গল্প। তিনি কি দুআ করেননি প্রিয় চাচা আবু তালিবের জন্য? তিনি কি মায়ের কবরের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে দুআ করেননি মায়ের জন্য? সেই দুআগুলোর কী উত্তর পাওয়া গিয়েছিল? যায়নি তো। আবু তালিব বেদ্বীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। মায়ের জন্য মাগফিরাতের দুআ চাইতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে।

আহ, নবীজি তো রবের সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন। নবীরা তো নিষ্পাপ ছিলেন। তাদের কোনও কোনোও দুআর এমন গল্প থাকলে আমাদের দুআগুলোর কী হবে? আমরা যে পাপী তাপী, আমাদের দুআগুলো কী চাইলেই কবুল হবে? হয়তো হবে। হয়তো হবে না। যদি না হয়?

বিয়ে হচ্ছে না। সংসার হচ্ছে না। বাবু হচ্ছে না। সন্তান নষ্ট পথে চলছে। ঋণের পাহাড় মাথায়। অশান্তি, অসুখ, কষ্ট, দুঃখ, ইলমের অভাব, আমলের অভাব, ভাতের অভাব।

সবকিছুর জন্য আমরা তাঁর দরবারে হাত তুললাম। রামাদানের শেষ দশ দিন। প্রতিরাতেই খুব খুব কাঁদলাম। কিন্তু দুআ কবুল হলো না। আর আমরা ভাবলাম - দুআ করে কী লাভ। আমাদের দুআ তো কবুল হয় না। সেই কবে থেকে চাইছি, দুআ যেহেতু কবুল হচ্ছে না, মনে হয় সামনেও হবে না। অথবা ভাবলাম, আমরা এতই পাপী যে, পাপের কারণে দুআ কবুল হচ্ছে না।

জেনে রাখুন, এমন ভাবনা ভুল।
ভুল করেও যেন আমরা না ভাবি দুআ আমাদের যাদের দুআ কবুল হয়েছে শুধু তারা ভাগ্যবান। আর আমাদের যাদের কবুল হয়নি তারা বঞ্চিত হয়েছি। তাহলে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।

কীভাবে জানেন, কারণ- দুআর মূল উদ্দেশ্য কী?
আপনি চাইবেন আর আল্লাহ দিবেন শুধু তাই?
না, বরং দুআর উদ্দেশ্য হচ্ছে 'ইবাদাহ।'
হাদীস শরীফে এসেছে, ‘আদদুআউ হুয়াল ইবাদাহ’। দুআই ইবাদত। আরেক হাদীসে বলা হয়েছে-‘আদদুআউ মুখখুল ইবাদাহ’। অর্থাৎ দুআ ইবাদতের মগজ বা সারবস্তু।

তো, এই যে আপনি আল্লাহর কাছে যাচ্ছেন, আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্য আল্লাহর নাম জপছেন, তা আপনার ইবাদত। এই ইবাদত আপনাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।

আর এই ইবাদতের তাওফিক যে আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন, সেজন্য আপনিও ভাগ্যবান। দুআ কবুল হোক বা না হোক, দুআর কারণে এটাই আপনার সবচেয়ে বড় পাওনা। আপনি যে চেয়েছেন, আপনার এই দুআর উত্তরও দুনিয়াতে না পেলে আপনি পরকালে পাবেন ইনশাআল্লাহ।

সব সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা হাত তুলি যে মহাপ্রতিপালকের দরবারে, তাঁর খাজানা অফুরন্ত। তিনি দান করলে তাঁর কিছু আসে যায় না। আপনাকে এই পুরো পৃথিবী দিলেও তাঁর কোনো ক্ষতি নেই। তবু তিনি দেননি আপনাকে, দুদিনের এই দুনিয়ায় না দেয়ার কারণে আপনি বারবার তাঁর দরবারে হাত তুলছেন, আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করে চাইছেন, এই তাওফিক যে আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন, তা এই দুনিয়ার সকল মানুষ পায় না।

তাই দুআ কবুল হোক বা না হোক। দুআ করতে থাকুন।
বেশি বেশি দুআ করতে থাকুন। চাইতে থাকুন সে মহান প্রভুর কাছে যিনি আপনাকে ভালোবেসে তাঁর কাছে চাওয়ার তাওফিক দিয়েছেন।

আমার জন্যও দুআ চাই। জেনে, না জেনে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাই।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: