ঢাকা শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৮


করোনা সচেতন গ্রামে মাস্ক পরার হার ৫৬ শতাংশ


প্রকাশিত:
১ আগস্ট ২০২১ ২১:০৪

আপডেট:
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৪১

নিউজ ডেস্কঃ

দেশে এখনো করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতা মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। করোনা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, এমন মডেল গ্রামগুলোতে মাস্ক ব্যবহারের হার ৫৬ শতাংশ। অন্য গ্রামগুলোতে এ হার ৩৩ শতাংশ। আজ রোববার জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’ আয়োজনে এক ভার্চ্যুয়াল সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ‘করোনা মোকাবিলায় স্থানীয় জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ’ শিরোনাম সংলাপের সহ-আয়োজক ছিল ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট’।

সংলাপে বক্তারা বলেন, শুধু প্রশাসনের ওপর মোকাবিলার দায়িত্ব ছেড়ে না দিয়ে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। আর এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি জাতীয় নীতিকাঠামো করা খুবই প্রয়োজন। একটি উপজেলাকে মডেল ধরে প্রত্যেকের দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউল আলম মজুমদার। তিনি জানান, প্রতিরোধব্যবস্থার মাধ্যমে যে করোনা সংক্রমণের শৃঙ্খলকে ভেঙে ফেলা সম্ভব, মডেল গ্রাম গড়ে তুলে সেই সুফল পেয়েছেন তাঁরা। হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রকল্পের আওতায় গত বছরের এপ্রিল থেকে ২১টি জেলার ৩৭টি উপজেলার ১ হাজার ১৬১ গ্রামকে করোনাভাইরাস সহনশীল গ্রাম (সিআরভি) হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এসব গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সচেতনতা সৃষ্টিসহ ৫৯৬টি গ্রামের ১৮ হাজার ৬৮৬ জনকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৩০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ বছরের ৪ এপ্রিল থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত ৮টি বিভাগের ৮২টি ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, মডেল সিআরভি গ্রামে লোকজনের মাস্ক পরার হার ৫৬ শতাংশ এবং যেসব গ্রামে এই মডেল ছিল না, অর্থাৎ নন-সিআরভি গ্রামে মাস্ক পরার হার ৩৩ শতাংশ। পর্যবেক্ষণ করা ইউনিয়নের মধ্যে ৪৪টি সিআরভি এবং ৩৮টি নন-সিআরভি ছিল। মোট ৯ হাজার ৮৬৪ জনকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।


অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে একটি উপজেলাকে মডেল ধরে কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারী সংস্থা (এনজিও), নাগরিক প্ল্যাটফর্মকে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। যার যার দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হবে, যেন কেউ কারও কাজ নিয়ে প্রশ্ন না তোলেন। এই প্ল্যাটফর্মের স্বেচ্ছাসেবকেরা একটি উপজেলার প্রতিটি বাড়ি গিয়ে জনগণকে মাস্ক পরা, কোভিড পরীক্ষা করা, রিপোর্ট পজিটিভ এলে আইসোলেশনে থাকা ও প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়া এবং শতভাগ টিকা নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবেন। লোকজন কতটা মেনে চলল, তা বুঝতে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রশাসনের মাধ্যমে এই উদ্যোগের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে হবে।

 

সকীর্ণ মনোভাব না রেখে জাতীয় নীতিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা সংলাপে তুলে ধরেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, এ নিয়ে রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এর পেছনের কারণ জানা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা এ কাজে অন্যদের কি প্রতিযোগী ভাবছেন, প্রশাসনও কি তা–ই ভাবছে?
বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বলেন, করোনা মোকাবিলায় একেক সচিবকে একেক উপজেলার দায়িত্ব দেওয়া আছে। সচিবেরা ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক করে খোঁজ রাখেন। জনসম্পৃক্ততার জন্য নীতিকাঠামো করা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে নেই। সামাজিক উদ্যোগ যুক্ত না করলে করোনা মোকাবিলা কঠিন হবে।

সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান বলেন, গ্রামের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বোধোদয় না এলে শুধু সেবা দিয়ে করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়।

সরকারকে করোনা মোকাবিলার নীতি গ্রহণে কঠোর থাকার আহ্বান জানিয়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো রওনক জাহান বলেন, বারবার নীতিতে পরিবর্তন এলে জনগণ ইচ্ছামতো চলতে আগ্রহী হবে। সচেতনতার বিষয়গুলো কেন মেনে চলা হচ্ছে না, ঘাটতি কোথায়, তা দেখা দরকার।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের অধীন প্রকল্প অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই, আগে যেটি ছিল এক্সেস টু ইনফরমেশন) নীতি উপদেষ্টা আনির চৌধুরী বলেন, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে এলাকায় করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ে ডেটা থাকতে হবে। এটুআইয়ের কাছে সেসব তথ্য রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল করোনাভাইরাস পরীক্ষা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, লোকজন পরীক্ষা করতে চায় না। যত বেশি পরীক্ষা হবে, তত বেশি সংক্রমিত লোকজন শনাক্ত হবে এবং সংক্রমিত লোকদের আইসোলেশনে রেখে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া কমানো সম্ভব হবে।

এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক লেলিন চৌধুরী, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন স্বপন কুমার দাস, সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের তিনজন এনজিও কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) নির্বাহী পরিচালক সেলিমা সারওয়ার, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ এবং ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশের (এফআইভিডিবি) নির্বাহী পরিচালক বজলে মোস্তফা রাজী।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের সমন্বয়ক মোস্তাক রাজা চৌধুরী।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: