ঢাকা শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৮


পেরিয়ে গেছে এক যুগ নাচোলে খাবার পানির তীব্র সংকটে ৩৯ পরিবার


প্রকাশিত:
৩১ জুলাই ২০২১ ১৫:২৪

আপডেট:
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:০৪

নিউজ ডেস্কঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল একটি বরেন্দ্র অঞ্চল। তার ওপর বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর নিচে নেমেই চলেছে। তাই গ্রীষ্ম মৌসুমে বিশেষ করে খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়তে হয় নাচোল উপজেলার অনেক এলাকাবাসীকে। 
 
কৃষকদেরও পড়তে হয় সেচ সংকটে। এবারে চরম খাবার পানি সংকটে পড়েছে উপজেলার ৩৯টি পরিবার। ওই পরিবারগুলোর পানি সংকট এক দেড় যুগ ধরে চলে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। 
 
পানির সংকটে থাকা ৩৯ পরিবারের অবস্থান হচ্ছে নেজামপুর ইউনিয়নের ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডে। এর মধ্যে পল্টন পুকুরের পশ্চিমে রেলঘুণ্টি নামক জায়গায় ১০টি, রাওতাড়া গ্রামে ৯টি দক্ষিণ চন্ডিপুর ঈদগাহ পাড়ায় ৮টি ও নেজামপুর রেলক্রসিং পার হয়ে সামান্য পশ্চিমে ১২টি পরিবারের বসবাস।
 
বেশিরভাগ পরিবারই নিম্ন আয়ের। কারো পক্ষেই নিজ উদ্যোগে মটরচালিত পাম্প বা টিউবওয়েল বসানো সম্ভব হয়নি। 
 
এই ৩৯ পরিবারের জন্য নেই খাবার পানির ব্যবস্থা। আবার হয়তো যেসব মটর থেকে খায়, সেই জায়গা আয়ত্তের বাইরে বলে অনেক হয়রানি হতে হয়। 
 
ইউনিয়নের আরো অনেক জায়গায় খাবার পানির সমস্যা দেখা দিলেও চরম সংকটে রয়েছে এই ৩৯ পরিবারের প্রায় ২৩৫ জন মানুষ। প্রতিদিনই এসব পরিবার সদস্যদের আধা কিলোমিটার থেকে ১/দেড় কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। 
 
করোনাকালে দলবদ্ধভাবে পানি সংগ্রহ করতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হলেও জীবন বাঁচার তাগিদে প্রতিদিনই এভাবে তাদের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। 
 
সরেজমিন কথা হয় ওই ৩৯ পরিবারের ভুক্তভোগীদের সাথে। তারা জানান, এই ৩৯ পরিবারের পানির সংকট কারো এক যুগ, কারো দেড় যুগ, কারো ১৫-২০বছর পার হতে চলেছে। অথচ এখন পর্যন্ত কোনো মটর বা টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়নি সমস্যা সমাধানে। 
 
তারা আরো জানান, এই সময়কালে ওয়ার্ড মেম্বার থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও বারবার যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ আমাদের পানি সংকটের সমাধানে এগিয়ে আসেনি। 
 
রাওতাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের স্ত্রী মোসাঃ হাবিবা বেগম জানান,  আমাদের বসবাস প্রায় দুই ২০বছর, গ্রামে কয়েকটি মটর থাকলেও আমাদের এইখানে ৯টি ঘর মসজিদের মটর থেকে পানি খেয়ে থাকি। এতে অনেকে অনেক কথা বলে থাকেন। ইতোমধ্যে মসজিদের মটর কয়েকবার নষ্ট হলে পানি খাবার নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাদের।
 
দক্ষিণ চন্ডিপুর পুর ঈদগাহ পাড়ার মনোয়ারা বেগম বলেন, এই পাড়ায় আমরা ৮টি পরিবার এক যুগ হলো পানির সংকটে আছি। আমরা গ্রামের শেষ মাথায় অনেকখানি হেঁটে মসজিদের মটার থেকে পানি খেয়ে থাকি। 
 
নেজামপুর রেল ক্রসিংয় পশ্চিম পাড়ার রহিমের স্ত্রী মোসাঃ দুলভ বেগম জানান, আমরা প্রথমত টিউবওয়েল থেকে পানি খেতাম। এখন নষ্ট হয়ে গেছে। ভালো করেও আর পানি পাইনা। অনেক দিন যাবত কষ্ট করে অন্যোর মটার থেকে পানি এনে খাচ্ছি। রেলঘুন্ঠি পাড়ার মোঃ সইবুরের স্ত্রী মোসাঃ উজলেফা বেগম জানান, ১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই আমাদের পানি সংগ্রহ করতে হয়। গরিব মানুষ, তাই নিজ খরচে মটর বসাতেও পারছি না, বলে জানান তিনি। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলেন, আমাদের মতো গরিব মানুষের কষ্ট দেখবার কেউ নেই। 
 
এ বিষয়ে কথা হয় নেজামপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার তাজ উদ্দিন ফটিকের সাথে ৩৯টি পরিবারের খাবার পানি সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে, তার ব্যবহারিত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। 
 
৪নং ওয়ার্ড মেম্বার আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখনতো আমাদের সময় শেষ বরাদ্দ নেই, সামনে আবার মেম্বার হলে এসমস্যা গুলো সমাধান করব।
 
নেজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক জানান, আমার কাছে আসলেও স্মরনে নেই। তবে তারা এখন যোগাযোগ করলে, সামনে বরাদ্দ পেলে বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করব।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের জানান, আমার কাছে কেউ কোনদিন আসেনি। আমার সাথে দেখা করলে সামনে বাজেট আসলে বিষয় গুলো সমাধান করার ব্যবস্থা নেব।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: