ঢাকা বুধবার, ২০শে অক্টোবর ২০২১, ৬ই কার্তিক ১৪২৮


মাথার চুল লম্বা করতে করণীয়


প্রকাশিত:
১২ অক্টোবর ২০২১ ১১:৪৮

আপডেট:
১৩ অক্টোবর ২০২১ ০০:২৯

সুন্দর একরাশ ঘন কালো চুল, সব মেয়েদেরই পছন্দ। কিন্তু সময়ের অভাবে চুলের যত্ন নেওয়া হয়ে ওঠে না, ফলে ঘন লম্বা চুলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। চুল লম্বা করতে চাইলে অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়। কিছু ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললেই কম সময়ে আপনার চুল হয়ে উঠতে পারে লম্বা।

মাথার তালু ম্যাসাজ

অনেকেরই ধারণা চুল বড় করতে, ভালো রাখতে দামি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হয়। এটা খুব ভুল ধারণা! বাজারের দামি দামি প্রোডাক্ট চুল ভালো রাখতে বা বড় করতে সেভাবে কাজে আসে না! বরং চুল বাড়াতে চাইলে আপনাকে জানতে হবে কিছু পদ্ধতি। গাছ বড় হওয়ার ক্ষেত্রে যেমন ভালো মাটি লাগে, তেমন মাথার তালু বা স্ক্যাল্প ছাড়া চুল ভালো হয় না। তাই স্ক্যাল্প হেলদি রাখতে ম্যাসাজ খুব জরুরি। চুল বৃদ্ধির একটি সহজ উপায় হল, মাথার তালু ম্যাসাজ। এটি আপনার মাথার ত্বকে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে তুলবে, চুলের গোড়া শক্ত করবে। অয়েল ম্যাসাজ করতে পারেন। তেল চুল বাড়াতেও সাহায্য করে।

জট ছাড়ান

আপনার চুল যত লম্বা হবে ততই চুলে জট পড়ার পরিমাণ ও বাড়বে। নিয়মিত স্নান করার পরে চুলের জট যদি না ছাড়ান তা থেকে চুল হতে পারে ক্ষতিগ্রস্থ। অনেকে ব্যস্ততার ফলে তাড়াহুড়োয় চুল ভেজা থাকা অবস্থাতেই চুল আঁচড়াতে থাকেন। এতে চুলে জট পড়ে এবং চুল উঠতে শুরু করে। তাই চুল শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন তারপরেই চিরুনি দিয়ে আস্তে আস্তে ছাড়িয়ে নিন জট। এতে চুল থাকবে ভালো।

সব সময় চুল বেঁধে রাখবেন না

লম্বা চুল সহজে ম্যানেজ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হল চুল বেঁধে রাখা। অনেকেই তাই সর্বক্ষণ চুল খোঁপা করে রাখেন বা শক্ত করে চুলে ঝুঁটি বেঁধে থাকেন। তবে টেনে টেনে খোপা করলে বা শক্তভাবে চুল বাঁধলে চুল হয় ক্ষতিগ্রস্থ। সেইসঙ্গে সর্বক্ষণ চুল যদি থাকে বাধা তবে চুলের গোড়ায় জমে ঘাম। এর থেকে চুল ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই চুল বাঁধলে দিনে কিছুটা সময় ফ্যানের তলায় দাঁড়িয়ে বা প্রাকৃতিক হাওয়াতে চুল শুকিয়ে নিতে ভুলবেন না অবশ্যই এবং চুল বাধার সময় খেয়াল রাখবেন যাতে বেশি চাপ না পড়ে চুলের গোড়ায়।

চুলের ডগা ছেঁটে নিন

হেয়ারড্রেসারের কাছে যেতে কি আপনি ভয় পান? স্বাভাবিক, কারণ চুল বাড়াতে অনেক সময় লাগে, কে আর তা ছেঁটে ছোট করে ফেলতে চায়? কিন্তু চুল তাড়াতাড়ি লম্বা করতে চাইলে এই অপছন্দের কাজটি আপনাকে করতেই হবে৷ ছয় থেকে আট সপ্তাহ অন্তর চুল ট্রিম করালে ফাটা ডগার হাত থেকে আপনি মুক্তি পাবেন এবং তা তাড়াতাড়ি বাড়তে আরম্ভ করবে।

চুল ধোওয়ার কাজে ব্যবহার করুন ঠান্ডা পানি

শ্যাম্পু আর কন্ডিশনারের নিয়মিত রুটিন সারা হয়ে গেলে চুল খানিকক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুন৷ এতে চুল থেকে বাড়তি আর্দ্রতা উড়ে যাবে না, কিউটিকলগুলি সিল হয়ে যাবে৷ চুল ধোওয়ার সময়েও খুব গরমপানি ব্যবহার না করারই পরামর্শ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে চুল শুকনো ও দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

হেয়ার স্টাইলিং সামগ্রী কম ব্যবহার করুন

আপনার স্ট্রেটনার বা কার্লিং আয়রনের মতো যে সমস্ত হেয়ার স্টাইলিং সামগ্রী গরম করে ব্যবহার করতে হয়, তাতে কিন্তু চুল ক্রমশ দুর্বল আর ভঙ্গুর হতে আরম্ভ করে৷ খুব ঘন ঘন ব্যবহার না করাই উচিত, একান্তই ব্যবহার করতে হলে আগে হিট-প্রোটেকট্যান্ট সামগ্রী লাগিয়ে নিন।

সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে

আপনার চুলেরও কিন্তু খুব আদর-যত্ন আর ভালোবাসার প্রয়োজন, তাই সঠিক ভিটামিন খেতে হবে৷ দোকানে যে সব ভিটামিন কিনতে পাওয়া যায়, তার মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডান্ট আর ভিটামিন বি সমৃদ্ধ যেগুলি, সেগুলি চুলের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে৷ বায়োটিনের মতো সাপ্লিমেন্ট অটুট রাখে চুলের স্বাস্থ্য৷

সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

প্রাকৃতিক বা হার্বাল শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। অন্য শ্যাম্পুও মাখতে পারেন, কিন্তু দেখে নেবেন তাতে যেন প্যারাবেন বা সালফেট না থাকে। এই দুটি রাসায়নিকই স্ক্যাল্পে প্রদাহ বা অ্যালার্জির কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা ছাড়া ক্যান্সারের কারণ হিসেবেও এই দুটি রাসায়নিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই প্যারাবেন বা সালফেটমুক্ত অর্গানিক শ্যাম্পুই ব্যবহার করুন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: