ঢাকা শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৮


চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ


প্রকাশিত:
১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:৩৩

আপডেট:
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৫২

নিউজ ডেস্কঃ দেড় বছর পর স্কুলে এসে খুশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিক্ষার্থীরা। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসেছেন তারা। প্রতিটি স্কুলে স্কুলে উচ্ছসিত ছিল শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পরে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পেরে খুশি হয়েছেন অভিভাবকরাও। শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের পেয়ে প্রাণ ফিরেছে বিদ্যালয়গুলোর।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান গেট দিয়ে মাস্ক পরে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। অন্যান্য সময়ের মত একে অপরের কাঁধে হাত অথবা কোলাকুলির দৃশ্য না থাকলেও শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ছিল অন্য রকম এক আনন্দ অনুভূতির ছোয়া।

নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, গত ১৭ মাস বাসায় বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। এছাড়া আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনলাইনে ক্লাসের সাথে পরিচিত না। তাই অনলাইনে ক্লাসের প্রতিও আমার কোন আগ্রহ ছিল না। বাসায় বসে, সুয়ে, মোবাইল টিভি দেখেই সময় পার করেছি। পড়াশোনার অনেক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আশা করি, স্কুল খোলার পর তা সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারবো। এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পাব এখন।

৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আনিসা আনজুম জানান, করোনায় পৃথিবী থমকে গেছিলো। সেই সাথে বন্ধ হয়েছিল পড়াশোনাও। স্কুলে ফিরতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। সকল বন্ধুদের পেয়ে যে আনন্দ লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরে পেলাম। দেশের সকল বিনোদন কেন্দ্র, গণপরিবহন, অফিস-আদালত, মার্কেট খুলে দেয়া হয়েছে। তাই দীর্ঘ সময়ের জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি আনিসার।

একাদশ শ্রেণীর ছাত্র আপন রেজা নিশান বলেন, চলতি বছরে বালুগ্রাম আর্দশ কলেজে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু ভর্তি হওয়ার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও কলেজে ক্লাসের সুযোগ পায়নি। আজ প্রথম ক্লাস করতে পেলাম। মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে কলেজের প্রথম ক্লাস স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রথম দিনেই অনেক নতুন বন্ধু হয়েছে।

বিদ্যালয়ের গেটের সামনে সন্তানের জন্য অপেক্ষারত অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, এতদিন স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানদের নিয়ে এক ধরণের চিন্তায় ছিলাম। সকালে মেয়েকে নিয়ে স্কুলে এসেছি, খুব ভাল লাগছে। এখন একটু চিন্তামুক্ত হলাম।

শুধু নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয় নয়, জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি ছিল। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়াও সরকারের উর্দ্ধোতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শণ করেছেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আবদুর রশীদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক মিলে মোট ৪৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: