ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ ১৪২৮


চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ প্রতীক্ষিত বৃষ্টিজলের তবে শিলাবৃষ্টি নয়!


প্রকাশিত:
৫ এপ্রিল ২০২১ ১১:১৫

আপডেট:
২৩ এপ্রিল ২০২১ ০৫:২৪

এম এ করিম, নিউজ ডেস্কঃ বৃষ্টিজল ও সেচের পানি জমির উপরিভাগে আলত আস্তরণ পড়তে অনেকটাই সহযোগীতা করে, আর তাই বৃষ্টিজল প্রতিটি উদ্ভিদের জন্য প্রাণ সঞ্চালন করে থাকে।

এদিকে গতকাল রবিবার বিকালে আকাশে মেঘমালা দেখে অনেকটাই আশ্বস্ত হয়েছিলেন চাষিরা তবে ঝড়োহাওয়া বয়ে যাওয়ায় অনেকটাই আতঙ্ক বিরাজ করছিল চাষিদের মনে।

তাছাড়া মানুষ মুখিয়ে আছে বৃষ্টির জলের জন্য আকাশের হালকা বৃষ্টি জমিয়ে উঠলে কৃষক যেমন প্রত্যাশী মুখে মেঘমালাকে বরণ করতে মুখ ভরা হাসি নিয়ে আকাশের দিকে তাকায়,ঠিক তখনি কালবৈশাখী নামক ঝড়ো হাওয়া ও তার সাথে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকের মুখভরা হাসি যেন শুকিয়ে তুলে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি জলের অপেক্ষমাণতা সকল কৃষক চাষী, এসময় আউশ ধান, পাট, গম, ভুট্টা, তিল মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙে ইত্যাদি আম সহ প্রায় সকল ফসলে বৃষ্টির জল প্রয়োজনবোধ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা।

কৃষি তথ্য মতে উদ্ভিদ ফসল মাটি থেকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় তরল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। তাছাড়া প্রস্বেদন প্রতিক্রিয়ার জন্য উদ্ভিদের প্রয়োজন পানি আর তাই সকল ফসলি জমি সহ উদ্ভিদের পানি চলমান সময়ে অত্যাবশ্যকীয়।

মাটিতে পানির ঘাটতি নিয়মিত সমস্যা আর তাই উদ্ভিদ মূলের দ্বারা শোষণ ও সূর্য তাপে বাষ্প হয়ে আদ্রতায় প্রয়োজনমতো দরকার পানি।এদিকে বৃষ্টি উদ্ভিদের বালাইনাশক বা প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে এবং ফসলি ভূমি বা উদ্ভিদের বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখায় তা বৃষ্টির পানিতে উপরিভাগ দিয়ে আকাশ থেকে ঝনঝন-করে ঝরনার মত বৃষ্টির জল পরতে থাকায় অনেক পোকামাকড়ের অধিক পানি অসহ্য বলে ফসলের পোকামাকড় নিস্তেজ হয়ে মারা যায় এতে করে ফসলি উদ্ভিদ প্রাণ ফিরে পায়।

তাছাড়া বৃষ্টির জল উদ্ভিদ গাছের কুশি বৃদ্ধি বা বংশবৃদ্ধি ও পুষ্টির সাধন করে থাকে এতে করে গাছ তার প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যের অধিকাংশই মাটি থেকে পানির সাহায্যে গ্রহণ করে থাকে এবং মাটির নিচে সঞ্চিত গাছের খাদ্যগ্রহণ পানির সাহায্যে প্রক্রিয়াবলে পানি মাটির জৈব পদার্থ পচন প্রক্রিয়া ও প্রাণসঞ্চারে সাহায্য করে।

মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে পানি আর তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা উদ্ভিদকুলের কথা চিন্তা করে অধীর অপেক্ষামাণ বৃষ্টির জলের তবে শিলাবৃষ্টি নয়। এদিকে শিলাবৃষ্টি বোরো ধান ফসলের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে তাছাড়া ধান ফসলের মধ্যে অনেক আগাম জাতের ধান ফুটে উঠেছে এতে করে শিলাবৃষ্টি মারাত্মক ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে।

এছাড়াও আম ফসলের শিলাবৃষ্টির ঘরোয়া একটি দুশমন এবং গুটি থেকে আম গুটি ডাঙ্গর হতে চলেছে তাই এ সময় আম ফসলের শিলা বৃষ্টি ছোঁয়াও পেলে প্রচণ্ড অাকার ধারন করতে পারে এমন ক্ষতির অংক গুনতে হবে আমচাষীদের।

তবে ফেটে যাওয়া মাটির ছিদ্র কণার অপেক্ষামান কখন নামবে আকাশ থেকে বৃষ্টি জল। এদিকে প্রচন্ড রোদ্রে পানির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে ফসলি জমির উদ্ভিদ আর তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক কৃষাণীরা আকাশের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে প্রতীক্ষিত হয়ে আছে বৃষ্টি জলের,তবে শিলাবৃষ্টি নয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: