ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর ২০২০, ১৫ই কার্তিক ১৪২৭


চাঁপাইনবাবগঞ্জে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প


প্রকাশিত:
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:২৭

আপডেট:
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:৩২

কপোত নবী,নিউজ ডেস্কঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সংকটের মুখে পড়েছে শিল্পটি। তারপরও পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছে অনেকেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহানন্দা নদীর তীরবর্তী এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বারঘরিয়া পালপাড়া যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা একটি স্বর্ণালি গ্রাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া-বাজার, পালপাড়া, নতুন বাজার, চুনারিপাড়া, বটতলাহাট-কুমারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য কুটিরে নয়নাভিরাম মৃৎশিল্পীদের বাসস্থান, যা সহজেই যে কারও মনকে পুলকিত করে। এক সময় এ গ্রামগুলো মৃৎশিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল।

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন শিল্প সামগ্রীর প্রসারের কারণে এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুকূল বাজারের অভাবে এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বসবাসকারী মৃৎশিল্পীদের অধিকাংশই পাল সম্প্রদায়ের। প্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় এবং আর্থসামাজিক কারণে মৃৎশিল্পে শ্রেণিভুক্ত সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

পরবর্তী সময়ে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা মৃৎশিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমান বাজারে এখন আর আগের মতো মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় এর স্থান দখল করে নিয়েছে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈজসপত্র।

সে কারণে অনেক পুরনো শিল্পীরাও পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাটির জিনিসপত্র তার পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। ফলে এ পেশায় যারা জড়িত এবং যাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মৃৎশিল্প তাদের জীবনযাপন একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দুঃখ-কষ্টের মাঝে দিন কাটলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা এখনো স্বপ্ন দেখেন। কোনো একদিন আবারও কদর বাড়বে মাটির পণ্যের। সেদিন হয়তো আবারও তাদের পরিবারে ফিরে আসবে সুখ-শান্তি। আর সেই সুদিনের অপেক্ষায় আজও দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া পুরাতন বাজার গ্রামের ভুপেস চন্দ্র পাল বলেন, বাপ-দাদার কাছে শেখা আমাদের এই জাত ব্যবসা আজও আমরা ধরে রেখেছি।

রাজশাহী সহ আশপাশের এলাকায় এক সময় মাটির তৈরি জিনিসের ব্যাপক চাহিদা ছিল কিন্তু বর্তমানে বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ সংকটের মুখে পড়েছে শিল্পটি। সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসন যদি সুনজর দেয় তাহলে হয়ত আবার ফিরে পেতে পারে হারিয়ে যাওয়া এ শিল্পটি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: